Google Ads

কোয়ারেন্টাইন কী ? কেনোইবা 40 দিনকে কোয়ারেন্টাইন বলা হয়।

কোয়ারেন্টাইন কী ? কেনোইবা 40 দিনকে কোয়ারেন্টাইন বলা হয়।


নিজস্ব সংবাদদাতা: ইতালির সিসিলির মেসিনা বন্দরে ব্ল‍্যাক সি পরিয়ে আসা জাহাজ গুলিকে হর্ষধ্বনি ও হাততালি দিয়ে স্বাগত জানানো বহুদিনের রীতি। ভিনদেশি জাহাজ দেখতে তখন ভিড় করতো 8থেকে 80।
1347 সালের অক্টোবর, জাহাজ বন্দর ছুঁতেই এক অভূতপূর্ব দৃশ্য দেখে হতচকিত স্বাগত জানাতে আসা সিসিলির বাসিন্দারা। তারা দেখলেন এক ডজন জাহাজের বেশিরভাগ নাবিক মৃত, আর যারা তখনো হাল ধরে বসে তারাও ধুকছেন। অন্তিম সময় আসন্ন। কি রোগ জানা না গেলেও আলোর গতিতে জাহাজ বাহিত রোগের কথা ছড়িয়ে পড়েছে সমস্ত সিসিলিতে। প্রশাসন ফেরার নির্দেশ দেয় কিন্তু তখন অনেকটাই দেরি হয়ে গেছে, এই খবর সমস্ত ইউরোপের কোনায় কোনায় ছড়িয়ে পড়ে। সেই থেকে মানুষের মুখে মুখে ইউরোপে শুরু ব্ল্যাক ডেথ এর ইতিবৃত্ত। ব্ল্যাক সি বেরিয়ে আসায় এর নাম হয় ব্ল্যাক ডেথ।বুবোনিক প্লেগের প্রোকোপের মাত্র ৫ বছরের মধ‍্যে কেবলমাত্র  ইউরোপে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন দুই কোটিরও বেশি মানুষ। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তৎকালীন ইউরোপ মহাদেশের এক-তৃতীয়াংশ লোক শেষ। বিশ্বের ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ মহামারী। সিসিলির মেসিনা বন্দরে নোঙ্গর করা ডেথ শিপের মাধ্যমে যে প্রকোপ শুরু হয়েছিল বলে মনে করা হয়, তার আঘাত এসে পড়েছিল এশিয়াতেও। সেখানেও একইভাবে মৃত্যু-মিছিল অব্যাহত ছিল। ব্ল্যাক ডেথ এর প্রকোপ কমাতে না কমতেই পরিকল্পনা শুরু করে ইউরোপ। কিন্তু টিকা ছাড়া কিভাবে রোখা যাবে এই অজানা-অচেনা মহামারী তা নিয়ে এক দুশ্চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। সে সময় বিমান পরিবহন ছিলনা। তাই মহামারী যে জাহাজের মাধ্যমে প্রবেশ করে তা নিয়ে কোন মতবিরোধ ছিলনা। তাই ঠিক করা হয় দুব্রোভনিকে প্রবেশের আগে জাহাজসহ নাবিক দল ও সওয়ারিদের বাধ্যতামূলকভাবে 30 দিন কাটাতে হবে একটি নির্দিষ্ট জায়গায়। সে জায়গা মূল ভূখণ্ড থেকে দূরে। এই প্রক্রিয়ার নাম দেওয়া হয় ট্রেনটিন। সেই সময় তীক্ষ্ণ নজর রাখা হবে জাহাজে যাত্রী ও নাবিকদের উপর। কোন উপসর্গ দেখা যায় কিনা। সেই ছিল প্রথম আনুষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন। যদিও ইতালিয় ভাষায় যাকে বলা হয় ট্রেনটিন বা 30 দিন। 1448 সালে ইতালি ও তৎকালীন প্রশাসন এই অপেক্ষার সময় কে 30 দিন থেকে বাড়িয়ে 40 দিন করে দেয়। ইতালীয় ভাষায় 40 দিন অর্থাৎ কোয়ারেন্টিন সেই শুরু। চিকিৎসা বিজ্ঞান বলে বুবনিক প্লেগের ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তির সংক্রামিত হওয়া থেকে মৃত্যু এই সময়কাল সর্বোচ্চ 37 দিন তাই 40 দিন সময় যদি সংক্রামিত ব্যক্তি কে সংক্রামন ছড়ানোর সুযোগ দেওয়া না যায় তাহলে তার প্রাণের বিনিময়ে হলেও বাকিদের সুস্থ রাখা যায়। কোভিড- 19 মহামারীর ত্রাসে যখন বিশ্ব কম্পিত। নেই কোনো প্রতিষেধক তখন মানুষের একমাত্র হাতিয়ার সেই শতাব্দী প্রাচীন কোয়ারেন্টিন, তাই আমাদের সবাইকে অবশ্যই এই কোয়ারেন্টিন টাকে খুব গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। তাহলেই এই ভয়াবহ মহামারী হাত থেকে আমরা রক্ষা পেতে পারবো।

Post a Comment

0 Comments