Google Ads

কেরলের হাতির হত্যকান্ডে গর্জে উঠলো দেশ ও বলিউড


কেরলের হাতির হত্যকান্ডে গর্জে উঠলো দেশ ও বলিউড













কলকাতা, নিজস্ব সংবাদদাতা: ইন্টারনেট এর জগতে ছোট-বড়ো কোনো কোথায় ভাইরাল হতে খুব বেশি সময় লাগেনা। তবে সম্প্রীতি যে বিষয়টা ভাইরাল হয়েছে তা মোটেও কোনো ছোট কথা নই। কেরল এর মালাপ্পুরমে ঘটে যাওয়া নিষ্ঠুরতা এর কথাই বলা হচ্ছে।এক গর্ভবতী হাতি তার খিদের জ্বালায় কিছু খেতে চেয়েছিল। কেরল এর মালাপ্পুরমে বাজি ভরা আনারস খাইয়ে হত্যা করা হয় ওই মা হাতি এবং তার পেটে থাকা বাচ্ছাকে। এই ঘটনার কথা প্রকাশে আসতেই গর্জে উঠেছে সারা দেশের মানুষজন--সাধারণ এবং বিশিষ্টরাও। হাজার হাজার লেখা সোশ্যাল মিডিয়া তে শত শত পোস্ট এই বিষয় নিয়ে। সবকিছু এর মুলে একই কথা, মানুষ কিভাবে এতো নিষ্ঠুর হতে পারে। পরিস্থিতি বুঝে অচেনা লোক গুলোর বিরুদ্ধে FIR দায়ের করা হয়েছে।

এই মামলাকে কেন্দ্র করে গর্জে উঠেছে শত শত পোস্ট। অনেকে অভিনেতা-অভিনেত্রী, পলিটিকাল নেতা এবং বিভিন্ন জায়গার জনসাধারণরাও এর ব্যাতিক্রম নই। বনবিভাগ এর অধিকারীক বলেছেন হাতিটাতো কারো কোনো ক্ষতি করেনি। মানুষকে বিস্বাস করাই তার কাল হয়েছে। হাতিটা ভেবেছিলো মানুষ দিচ্ছে যখন ভালোই হবে নিশ্চই। তাই নিজের এবং তার সন্তান এর কথা ভেবেই সে আনারসটা খেয়েছিল। যার ফলাফল সে এরূপ আশা করতে পারেনি।

আলিয়া ভাট লিখেছেন, অত্যন্ত নিন্দনীয়। ভাষা খুঁজে পাচ্ছিনা। আমাদেরকেই ওদের আওয়াজ হতে হবে। এই ঘটনা অসুস্থ মানসিকতা এর পরিচয় দেয়। বলিউড তরাকা শ্রদ্ধা কাপুর টুইটার এ লিখেছেন, কেমন করে করা সম্ভব এটা? মানুষের কি হৃদয় নেই?আমার মন ভেঙে গেল। অপরাধীদের কঠিন শাস্তি হওয়া উচিত। অভিনেতা রণদীপ হুন্ডা পশুপ্রেমী বলে কম বেশি সবার কাছেই পরিচিত। তিনি লিখেছেন, এতো অমানবিক ঘটনা !! এটা কি প্রত্যাশিত?  কালপিটদের অবিলম্বে শাস্তি দেওয়া হোক। পরিচালক সৃজিত মুখার্জি এই ঘটনার এক প্রতিবেদন শেয়ার করে বলেছেন, আমাদের ভাইরাসই প্রাপ্য।

মেনকা গান্ধী এর কথা এটা হল একটা নিশংস হত্যা। তিনি ওই জেলাকে হিংসাত্মক আখ্যা দিয়েছেন। তিনি আরো মন্তব্য করেন যে এই ধরণের ঘটনা ওখানে হামেশাই লক্ষ্য করা যায়। রাস্তার ধরে বিষ ছড়িয়ে রাখে ওরা, যাতে কুকুর আর পাখি এর দল অবিলম্বে মরে যায়।

বিসনেস টাইকুন রতন টাটা একজন পশু প্রেমী সে বিষয় জানতে কারোরই বাকি নেই তিনি তার ইন্সটাগ্রাম পোস্ট এ লিখেছেন,আমি একথা শুনে শোকাহত ও হতবাক হয়েছি যে একদল লোক পটকাবাজিতে ভরা একটি আনারস দিয়ে হাতিটিকে খাওয়িয়ে একটি নির্দোষ, প্যাসিভ, গর্ভবতী হাতির মৃত্যু ঘটিয়েছিল। নিরীহ প্রাণীদের বিরুদ্ধে এ জাতীয় অপরাধমূলক কাজ অন্যান্য মানুষের বিরুদ্ধে ধ্যানমূলক হত্যার কাজগুলির চেয়ে আলাদা নয়।বিচারের বিজয় প্রয়োজন।

গর্ভবতী হাতিকে বাজি ভরা আনারস খেতে দেওয়া হয়েছিল। এবং সেই আনারস ফাটতেই ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে যায় হাতির জীব ও মুখ।যাতে তার গর্ভে থাকা সন্তান এর কোনো ক্ষতি না হয় সে কারণ এ তাকে বাঁচানোর জন্য প্রাণ চলে যাওয়া অবস্থাতেও সে দাঁড়িয়ে ছিল জল এর উপর। ১৪ দিন ঝলসে থাকা মুখ নিয়ে কিছু না খেতে পারাই অবশেষে সে দেহ ত্যাগ করে। কতই না যন্ত্রনা হয়েছিল তার।

কৃষ্ণন জানিয়েছেন ওই হাতিটি কে বাঁচানোর জন্য অন্য দুই হাতি দিয়ে তোলার চেষ্টা করা হলে সে উঠে আসতে চাইনি। হয়তো রক্ষণ তার ষষ্ট ইন্দ্রিয় তখন কাজ করছিলো এবং সে তার মৃত্যু সম্পর্ক এ জেনে গেছিলো তাই। মৃত্যু এর পর ওর মৃত দেহ ট্রাক এ করে নিয়ে গিয়ে বনবিভাগ এর কর্মীরা দাহ করে দেয়।মৃত্যু এর সময় কতইনা কষ্ট হচ্ছিলো ওর, আমরা সবাই মাথা নতো করে রাখা ছাড়া আর কিছুই করতে পারছিলামনা।

Post a Comment

0 Comments