Google Ads

স্যানিটিজের নিয়েও অসাধু ব্যাবসায়ী,সাবধান হন

স্যানিটিজের নিয়েও অসাধু ব্যাবসায়ী,সাবধান হন


কলকাতা, নিজস্ব সংবাদদাতা : ভারতে covid-19 আসার পর থেকে বাজার ব্যবস্থা এর আমূল পরিবর্তন হয়েছে। কোনো কোনো জিনিস এর দাম অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে আবার কোনো কোনো জিনিস এর দাম কমে গেছে। কোনো কোনো জিনিস বাজারে সবসময় পাওয়া যাচ্ছে আবার কোনো কোনো জিনিস অর্ডার দিয়েও পাওয়া যাচ্ছেনা। এরকমই কিছুটা অবস্থা রয়েছে হ্যান্ড স্যানিটিজের এর। বাজারের শুরু থেকেই হ্যান্ড স্যানিটিজের ছিল কিন্ত তখন খুব একটা ব্যবহার এর ছিলনা। বর্তমান এবং কিছুদিন আগে পযন্ত পরিস্থিতি এর মোকাবিলা এর উপর ভিত্তি করে এর প্রচলন অনেক বেশি বেড়ে গেছিলো। যার ফলে তৎকালীন সময়ে অনেক জায়গায় পাওয়াও যায়নি। 

এখন ব্যাপার হলো এই স্যানিটিজের এর চাহিদা কে কাজে লাগিয়েই ব্যাবসায় নেমেছে কিছু অসাধু লোক। যারা স্যানিটিজের এর মূল উপাদানের বদলে অন্য জিনিস মিশিয়ে সেটা কম দামে বিক্রি করছে। এর ফলে স্যানিটিজের এর প্রধান কাজ এবং গুণমান নষ্ট হচ্ছে। এরকম ডুব্লিকেট স্যানিটিজের ব্যাবহার এর ফলে হতে পারে, শরীরের অগাধ ক্ষতি। আসল এবং নকল স্যানিটিজের এর মধ্যে সেই ভাবে কোনো পার্থক্য নেয়। গন্ধ, বর্ণ সবই এক। পার্থক্য শুধুমাত্র দামে। তাই আসল ও নকল এর বাছাই খুব ভালো ভাবেই করতে হবে সবার। 

স্যানিটিজের তৈরী এর মূল উপাদান হলো ইথাইল, আইসোপ্রোপাইল এলকোহল, এলোভেরা জেল ও অন্যান্য অক্সিডেন্ট। যার ফলে স্যানিটিজেরটি জীবাণু মারতে প্রখরভাবে সফল হয়। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যাবসায়ীরা কম টাকার স্যানিটিজের দেওয়ার সুযোগ নিয়ে সারা বাজারে ঢুকে পড়েছে। তারা এই উপাদান গুলোর মধ্যে কিছু পরিবর্তন ঘটিয়েছে। স্যানিটিজের এর মূল উপাদান আইসোপ্রোপাইল এলকোহল এর বদলে তারা ব্যবহার করছে মিথাইল এলকোহল। আইসোপ্রোপাইল এলকোহল প্রতি লিটার এর দাম প্রায় 200-250 টাকা কিন্তূ সেই জায়গায় মিথাইল প্রোপাইল এর প্রতি লিটার এর দাম 30-50 টাকা, আর নীতিগত পার্থকেও খুব কম । আর এরই লাভ নীচে অসাধু ব্যাবসায়ীরা।

মিথাইল এলকোহল মূলত বহিরাগত কাজ যেমন কাঠ পালিশ, বার্নিশ এর কাজে ব্যবহার করা হয়। কিন্তূ শরীরে এবং হাতে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার এর ফলে বিপুল প্রভাব পড়তে পারে বলে দাবি বিশেষজ্ঞদের। মিথাইল এলকোহল খুব তাড়াতাড়ি ফর্মাল ডিহাইড এ পরিণত হয়। আর দীর্ঘদিন ধরে এটি দেহে প্রবেশ করতে থাকলে, শ্বাসযন্ত্র বিকল হয়ে যেতে পারে। এছাড়াও দেহের অন্যান্য প্যাথোজেন নষ্ট হয়ে দেহের অন্য অঙ্গপ্রতঙ্গ বিকল হতে থাকবে। যার ফলে সুস্থ মানুষেদের মৃত্যুও হতে পারে। এছাড়াও দীর্ঘদিন এটি চামড়ায় লাগার ফলে চামড়া এরও নানা সমস্যা হতে পারে। 

ইতিমধ্যেই দেশের বড়ো বড়ো শহর থেকে প্রায় 4 কোটি টাকার স্যানিটিজের বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সেগুলোর দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। আর জানা গিয়েছে,  হায়দ্রাবাদ থেকে 1 লক্ষ্য স্যানিটোজের ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন রাজ্যে। এই খবর পাওয়ার পরে সিবিআই সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে বিভিন্ন রাজ্যে। তদন্তে নেমেছে এরাজ্যের গোয়েন্দারাও। অবশেষে জনসাধারণরা যদি সঠিকভাবে সঠিক স্যানিটিজের কিনতে সফল না হয়তো, তাহলে তাঁদের পক্ষে সাবান ব্যবহার করা বেশি কার্যকরী বলে জানিয়েছে বিশেষজ্ঞরা।

Post a Comment

0 Comments