Google Ads

পঙ্গপাল নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা - A to Z কোথা থেকে এলো, কোথায় গেলো


কলকাতা, নিজস্ব সংবাদদাতা: Covid-19, আম্পান এর পর এখনকার চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে পঙ্গপাল কি এই পঙ্গপাল? কোথা থেকে আসছে এই পঙ্গপাল?  কোনোইবা আসছে? এইসব বিষয় নিয়েই আজকে বিস্তারিত আলোচনা। 

বিভিন্ন দেশের কৃষি বিভাগ এবং উদ্ভিদবিজ্ঞানীদের কাছে ইংরেজি লোকাস্ট নামে পরিচিত এই পঙ্গপাল। বাংলায় এর নাম পতঙ্গ, এটি একধরণের ঘাসফড়িং। 

পঙ্গপাল হল Acrididae পরিবারে ছোট শিংয়ের বিশেষ প্রজাতি যাদের জীবন চক্রে দল বা ঝাঁক বাধার পর্যায় থাকে। এই পতঙ্গগুলো সাধারণত একাই থাকে কিন্তু বিশেষ অবস্থায় তারা একত্রে জড়ো হয়। তখন তাদের আচরণ ও অভ্যাস পরিবর্তিত হয়ে সঙ্গলিপ্সু হয়ে পড়ে। পঙ্গপাল এবং ঘাস ফড়িংয়ের মধ্যে কোন পার্থক্যগত শ্রেণীভাগ নেই। বিশেষ অবস্থায় তাদের প্রজাতিরা একত্র হওয়ার যে প্রবণতা দেখায় সেটাই মূল পার্থক্য।

আফ্রিকার কয়েকটা দেশ এবং পাকিস্তান এ আক্রমণ চালানোর পর ভারতেও হানা দিয়েছে এই পঙ্গপাল। ইতিমধ্যেই ভারতের পাঞ্জাব  ঢুকে পড়েছে এই পঙ্গপাল । পাঞ্জাবে ঢুকে থাকা পঙ্গপালের ব্যাপ্তি  তিন কিলোমিটার। সে কারণে পাঞ্জাব এর আসে পাশের বেশ কয়েকটা রাজ্যে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ওড়িশা তে পঙ্গপালের হানা দেওয়া এর সম্ভাবনা রয়েছে। আর ওড়িশা থেকে পশ্চিমবঙ্গ এর দূরত্ব যে কতটা তা নিশ্চই আলাদা করে বলার দরকার নেই। তাই ভাবাই যেতে পারে পশ্চিমবঙ্গ  পা রাখতে আর বেশিদিন সময় নেই এই পঙ্গপালের। তাই সময় থাকতে থাকতেই সতর্ক হতে হবে কৃষকদের। প্রায় ২৭ বছর পর আবার দেখা গেছে এই পঙ্গপালের। এই পঙ্গপালের প্রকোপ এ পড়তে পারে হাজারও কৃষক। 

এইসময় রাজ্যে আগে থেকেই করোনা পরিস্থিতি করুন হয়ে পড়েছে তারপর আবার পঙ্গপাল। পঙ্গপাল এর সঙ্গে মোকাবিলা করতে গেলে কৃষকদের বাড়ি থেকে বাইরে বেরোতে হবে। আর বাড়ি থেকে বাইরে বেরোলে সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা। তাই দুদিকেই ভেবে চিন্তা কাজ করতে  হবে কৃষদের। 

পঙ্গপালের কথা আজ নতুন নই, প্রায় অনেক আগে থেকেই পৃথিবীতে আছে এই পঙ্গপাল। প্রাচীন পুরান, সাহিত্য,  বাইবেল এবং আরও অনেক ধর্মগ্রন্থতে এর কথা উল্লেখ আছে। বাইবেল এর "The ten plagues of Egypt" এ এই বিষয়টা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা আছে। 

ঘাসফড়িং যখন অনুকূল পরিস্থিতিতে নিজের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে থাকে তখনি তারা দলবদ্ধ হতে শুরু করে। তারি সঙ্গে বৃদ্ধি পাই এদের ক্ষুদার্থতা। খাবার এর খোঁজে এরা পারি দেয় একের পর এক মাইল। কোথাও খাবারের খোঁজ পেলে, সেখানকার যাবতীয় সবুজ নিমিষে শেষ করে দিতে পারে এরা। আগের সবুজ, নিরীহ  ঘাসফড়িং থেকে এরা ভয়াবহ, ক্ষুদার্থ, হলুদ-কালো পঙ্গপাল এ পরিণত হয়। এক একটা পঙ্গপাল এর দলে প্রায় ৪০ মিলিয়ন পঙ্গপাল থাকতে পারে। এরা এক এক দিনে প্রায় ৯০ মাইল উড়ে যেতে পারে খাবারের সন্ধানে। আর তার থেকেও ভয়াবহ কথা হলো এরা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাওয়ার সময় ডিম পেরে যায়। এরা প্রতিবর্গ কিলোমিটার এ প্রায় ১০০০টি করে ডিম পারতে পারে। আর হিসেব অনুযায়ী এদের এক একটা দল এক একটা দিনে প্রায় ৩৫০০০ লোকের  খাবার শেষ করে দিতে পারে। তাহলে বোঝাই যাচ্ছে এদের প্রকোপ মোটেও কম নই। 

ভারতে রাজস্থান, মধ্যেপ্রদেশে, গুজরাট, পাঞ্জাব এর প্রকোপ এ ক্ষতি হয়েছে হাজার হাজার কোটি টাকা। এমনটা  নই যে এ বিষয়ে ভারতে আগে থেকে কোনো ব্যবস্থা করা ছিলনা, ব্যবস্থা করা হয়েছিল কিন্তূ এবছর এ পঙ্গপাল এর সংখ্যাটা এতটাই বেড়ে গেছে যে তার সঙ্গে কৃষকরা পাল্লা দিয়েছি উঠতে পারেনি। তবুও পরিস্থিতি অনুযায়ী নানা সিধান্ত নেওয়া হচ্ছে যা ভবিষ্যত এ কার্যকরী হবে। পশ্চিমবঙ্গতে পঙ্গপাল এর প্রকোপ এর সম্ভাবনা যদিও ক্ষীণ তাও জেনে রাখা ভালো, সতর্ক থাকা ভালো।

Post a Comment

0 Comments