Google Ads

আমাদের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় আমাদের মধ্যে আর রইলেন না

 

আমাদের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় আমাদের মধ্যে আর রইলেন না

কলকাতা, নিজস্ব সংবাদদাতা: গত ৯ অগস্ট বাড়ির বাথরুমে পড়ে গিয়ে মাথায় চোট পান প্রণব মুখোপাধ্যায়। তারপরই দিল্লির কনটেনমেন্ট সেনা হাসপাতালে তাঁকে ভর্তি করানো হয়। শারীরিক পরীক্ষার মাধ্যমে দেখা গিয়েছিল  তার মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বেঁধেছে। জরুরী দরকারে ব্রেনে অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল। তার করোনা রিপোর্টও পজিটিভ এসেছিল। অস্ত্রোপচারের পর থেকেই ভেন্টিলেশনে ছিলেন তিনি কখনও কখনও শারীরিক অবস্থা উন্নতি হয়েছিল। আবার কখনও কখনও শারীরিক অবস্থা করুণ হয়েছিল। মূত্রাশয় তথা ফুসফুসের সমস্যাও ধরা পড়েছিল তার। যাবতীয় ষাড়ের লড়াই এর বিরুদ্ধে 22 দিনের বেশি টিকে থাকতে পারেননি তিনি। তিনি সোমবার তার শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।


সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টা নাগাদ পুত্র অভিজিত্ মুখোপাধ্যায় টুইট করে জানালেন, বাবা আর নেই। দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি, সেনা হাসপাতালের চিকিৎসকদের আপ্রাণ প্রচেষ্টা, সারা ভারতের মানুষের প্রার্থনা, দুয়া সত্ত্বেও এইমাত্র আমার বাবা শ্রী প্রণব মুখোপাধ্যায় মারা গিয়েছেন। আমি আপনাদের সকলকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’ প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব বন্দ্যোপাধ্যায় মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল 84 বছর।


11 ডিসেম্বর 1935 সালে বীরভূমের কীর্ণাহারের কাছে মেরিটি গ্রামে বাবা কামদাকিঙ্কর মুখোপাধ্যায় এবং মা রাজলক্ষ্মী দেবীর কোল আলো করে জন্ম গ্রহণ করেছিলেন প্রণব মুখোপাধ্যায়। বাবা কামদাকিঙ্কর মুখোপাধ্যায় ছিলেন স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী। পরবর্তীকালে পশ্চিমবঙ্গের বিধান পরিষদের সদস্যও ছিলেন। সেই সূত্রেই প্রণবের রাজনীতির দিকে আগ্রহ বেশি হয়।


পরবর্তীতে 1957 সালে কিছুদিন স্কুলে শিক্ষকতা করেন তিনি। এই সময়েই তার জীবন সঙ্গিনী শুভ্রাদেবীর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে বেঁধে গিয়েছিলেন তিনি।  1963 থেকে 1969 সাল পর্যন্ত দক্ষিণ 24 পরগনার বিদ্যাননগর কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে নিয়ে শিক্ষকতা করেছিলেন তিনি। রাজনীতির দিকে আগ্রহ এবং প্রবল দেশ ভক্তি থাকার জন্য তিনি  1966 সালে বাংলা কংগ্রেসের সদস্য সক্রিয় রাজনীতিতে যোগদান করেন। 1969 সালে বাংলা কংগ্রেসের টিকিট রাজ্যসভার সদস্য হন এবং একই সঙ্গে দেশ সেবার কাজ চালাতে থাকেন।


এরপর তিনি 1969 থেকে 1977 সাল পর্যন্ত টানা কাজ করে যান। 1977 সালে লোকসভা ভোটে কংগ্রেসের হয়ে মালদাহ থেকে লড়েন এবং হেরে যান। 1980 সালের লোকসভা ভোটে কংগ্রেসের হয়ে বোলপুর থেকে আবারো একবার তিনি ভোটে দাঁড়ান। কিন্তু সেখানেও তিনি হেরে যান। এরপর তিনি ইন্দিরা মন্ত্রিসভার বাণিজ্যমন্ত্রী এবং রাজ্যসভায় কংগ্রেসের দলনেতা হন। 2002 সাল পর্যন্ত টানা রাজ্যসভার সদস্য ছিলেন এবং সেইভাবেই কাজ করে যান তিনি।


1986 সালে রাজীব গান্ধীর সঙ্গে কোন এক বিষয়ে বিরোধের জেরে তাকে কংগ্রেস থেকে বহিষ্কার করা হয়। এরপর তিনি রাষ্ট্রীয় সমাজবাদী কংগ্রেস দল গঠন করেন। রাজীব গান্ধী মৃত্যুর পর 1991 সালে ফের বদল আসে তাঁর রাজনৈতিক জীবনে। নরসীমা রাওর আমলে ক্যাবিনেট মন্ত্রী হিসাবে ইন্ডিয়ান প্ল্যানিং কমিশনের ডেপুটি চেয়ারম্যান ছিলেন প্রণব মুখোপধ্যায়। নরসীমার সময়েই 1995 থেকে 1996 সাল পর্যন্ত বিদেশমন্ত্রকের দায়িত্বভার সামলেছেন তিনি।


মুর্শিদাবাদের জঙ্গীপুর লোকসভা থেকে জিতে ২০০৪ সালে লোকসভার নেতা হন প্রণব মুখোপাধ্যায়। ২০০৯ সালে ফের সেই কেন্দ্র থেকে জেতেন তিনি। এরপর 2008 সালে তিনি পদ্মভূষণ উপাধি লাভ করেন। 2012 থেকে 2017 সাল পর্যন্ত তিনি ভারতের রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিযুক্ত হন। 2017 সালের 25 জুলাই মেয়াদ শেষ হয় তাঁর নতুন রাষ্ট্রপতি হন রাম নাথ কোবিন্দ। 2019 সালে ভারত সরকারের কাছ থেকে তিনি ভারতরত্ন উপাধি পান। 2020 সালের আগস্ট মাসে 31 তারিখে 84 বছর বয়সে তিনি পরলোকগমন করেন।


প্রণব মুখোপাধ্যায় প্রণয়নে আগামীকাল রাজ্য সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার দিন একথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রসচিব। এছাড়া 31 শে আগস্ট থেকে 6 সেপ্টেম্বর পর্যন্ত 7 দিনের শোক পালন করা হবে,  এ কথা জানানো হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের দ্বারা। আগামীকাল দিল্লিতে হবে প্রণব বাবুর শেষকৃত্য। লালকেল্লায় জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে।



Post a Comment

0 Comments